কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বৃহস্পতিবার, ১ মে, ২০২৫ এ ০৬:০০ AM

অনুবিভাগ-৬: সমন্বয় ও নরডিক কার্যাবলি

কন্টেন্ট: পাতা

বৈদেশিক অর্থ আহরণ তথা বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে অনুদান, ঋণ মঞ্জুরি, খাদ্য সাহায্য, প্রকল্প সাহায্য ও কারিগরি সহায়তা ইত্যাদি সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সমন্বয় ও নরডিক অনুবিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ অনুবিভাগের অধীন সমন্বয় অধিশাখার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে বৈদেশিক অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/সংস্থা তাদের প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রেরণ করে। পিডিপিপি প্রাপ্তির পর সমন্বয় অধিশাখা তা ইআরডির বিভিন্ন অনুবিভাগ/অধিশাখায় প্রেরণপূর্বক প্রস্তাবিত বৈদেশিক সাহায্য সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করে। উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা বৈদেশিক অর্থ সহায়তা দিতে সম্মত হলে সমন্বয় অধিশাখা তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থাকে জানিয়ে দেয়।


রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সকল গুরুত্বপূর্ণ সভাসমূহে সমন্বয় অধিশাখা হতে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংক্রান্ত সভা, একনেক সভা, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা, মন্ত্রিপরিষদ সভা, সচিব কমিটির সভা, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার তথ্যাদি এ অনুবিভাগ হতে প্রদান ও সমন্বয় করা হয়। এ ছাড়া ইআরডির মাসিক/বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি, নীতিমালা প্রণয়ন এবং সমন্বয় ও নরডিক অনুবিভাগের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠান এ অনুবিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। সমন্বয় অনুবিভাগ ইআরডির বিভিন্ন অধিশাখা এবং শাখার অনিষ্পন্ন কাজের তালিকা, এ বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্তৃক অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের সভায় যোগদান সম্পর্কিত প্রতিবেদন এবং এ বিভাগের কর্মকর্তা কর্তৃক বৈদেশিক সহায়তায় পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন প্রতিবেদন সংকলন করে মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করে থাকে। সমন্বয় ও নরডিক অনুবিভাগ একজন অতিরিক্ত সচিবের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।‌ নিম্নে অধিশাখা/শাখা ভিত্তিক কর্মবন্টন আলোচিত হলোঃ

সমন্বয়- অধিশাখা -  এই অধিশাখা সমন্বয়-৫ শাখার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। একজন উপসচিব এই অধিশাখার দায়িত্বে আছেন।

সমন্বয়- শাখাঃ

১। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর (WFP) এর আওতাধীন খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক যে সরকারী কার্যক্রম পরিচালিত হয় তার প্রক্রিয়াকরণ।
২। দারিদ্র্য পিড়িত এলাকায় জরুরী দূর্যোগ মোকাবেলায় সামাজিক সহায়তা প্রক্রিয়াকরণ।
৩। খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সহায়তায় অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম/পর্যালোচনা/প্রক্রিয়া এবং সমন্বয়করণ।
৪। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন।

সমন্বয়- অধিশাখা -  এই অধিশাখা সমন্বয়-৩ শাখার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। একজন যুগ্ম-সচিব এই অধিশাখার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

সমন্বয়- শাখাঃ
১। মন্ত্রিপরিষদ সম্পর্কিত বিষয় যথাঃ- মন্ত্রিসভা বৈঠক, সচিব কমিটির সভা, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা, প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভা, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচী সংক্রান্ত কার্যাবলী।
২।  জাতীয় সংসদ সংক্রান্ত কার্যাবলী।
৩। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কার্যাবলী।
৪। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের বৈদেশিক সহায়তায় অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম/পর্যালোচনা/প্রক্রিয়া এবং সমন্বয়করণ ।
৫। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত কার্যাবলী।

সমন্বয়- অধিশাখাঃ

  • বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্প/কর্মসূচির অনুকূলে বৈদেশিক অর্থায়ন/অনুদান সহায়তা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের বিভিন্ন অনুবিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন।
  • বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত ও পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত প্রকল্প অথবা নীতিগতভাবে অনুমোদিত প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) বৈদেশিক সহায়তা অনুসন্ধান কমিটির সভায় উপস্থাপন এবং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ ।
  •  বৈদেশিক সহায়তা সংগ্রহের অগ্রগতি সম্পর্কে চাহিদার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়/বিভাগকে অবহিতকরণ ।
  • মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক প্রস্তাবিত বিভিন্ন কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলী।
  • সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক/উন্নয়ন প্রকল্প/কর্মসূচি যেগুলো নির্দিষ্ট কোনো উন্নয়ন সহযোগীর কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় সেই সংক্রান্ত কার্যাবলী সম্পাদন ।


সমন্বয়- শাখা (আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)

আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) জাতিসংঘের  একটি বিশেষায়িত সংস্থা। ইফাদ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৭৭ সালে আত্মপ্রকাশ করে। ইফাদ  কৃষি ক্ষেত্রে, ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রদান, কৃষি সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণ, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও শস্য বহুমুখীকরণমূলক কর্মকান্ডে অনুদান ও ঋণ  প্রদান করে থাকে। ইফাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত একটি পৃথিবী গঠনে  সার্বিক সহায়তা প্রদান করা। ইফাদ বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এদেশের চরম দারিদ্র পীড়িত, ভূমিহীন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের দারিদ্র বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি, মৎস্য, পশুপালন, সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, কৃষির বহুমুখী ও নিবিড়করণ, গ্রামবাংলার অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ কমিউনিটি ভিত্তিক উন্নয়নে অর্থায়ন করে আসছে।

জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত বা জাতিসংঘের বিশেষায়িত কোন প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি কমিশনের সদস্য দেশসমূহ আন্তর্জাতিক  কৃষি উন্নয়ন তহবিলের সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারে। ইফাদের বর্তমান সদস্যসংখ্যা ১৭২ যা নিম্নলিখিতভাবে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছে।

তালিকা ‘ক’ (প্রাথমিকভাবে OECD সদস্য)
তালিকা ‘খ’ ( প্রাথমিকভাবে  OPEC সদস্য) এবং
তালিকা ‘গ’ (উন্নয়নশীল দেশসমূহ)
 

তালিকা ‘গ’-কে আবার ৩টি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে-
উপ তালিকা-‘গ’-১ (আফ্রিকার দেশসমূহ)
উপ তালিকা ‘গ’-২ (ইউরোপ, এশিয়া ও প্যাসিফিক দেশসমূহ)
উপ তালিকা ‘গ’-৩ (ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারাবিয়ান দেশসমূহ)

বাংলাদেশ ‘গ’ শ্রেণীভুক্ত সদস্য।


ইফাদ Country Opportunities Programme (COSOP):
ইফাদ প্রতিটি দেশে, সে দেশের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং ইফাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সংগতি রেখে  COSOP  প্রস্তুত করে সে অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে থাকে ।  বাংলাদেশে প্রথম ১৯৯৯ সালে   COSOP এর আওতায়  প্রকল্প বাস্তবায়ন  করে। ২০০৫ সালে ২য় COSOP (২০০৬-২০১১) সময়ের জন্য বাংলাদেশের Poverty Reduction Strategy Paper (PRSP) এর সাথে সংগতি রেখে  এবং বর্তমান  COSOP (২০১২-২০১৮) সময়ের জন্য গ্রহণ করে। বর্তমান  COSOP এর আওতায় ২ সাইকেলে ইতিমধ্যে ৪টি প্রকল্প চুক্তি স্বাক্ষরপূর্বক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশে ইফাদের  অনুদান:
বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে  ইফাদের কার্যক্রম শুরু হয়।  এ পর্যন্ত ২৮টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে এবং বর্তমানে (২০১৫-১৬) ৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ইফাদের কাছ থেকে ঋণ হিসাবে ৬৩৩.৯ মিলিয়ন  মার্কিন ডলার এবং অনুদান হিসাবে  ৩,৮৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার  গ্রহণ করেছে।
ইফাদ সহ-অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশের  প্রকল্পসমূহে ঋণ ও অনুদান প্রদান করে আসছে। সহ অর্থায়নকারীর কাছ থেকে এ পর্যন্ত ৬৩৯.৭ মিলিয়ন মার্কেন ডলার পাওয়া গেছে।  সহ-অর্থায়নকারী সংস্থার মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ২৭৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিশ্বব্যাংক  ৬২.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে। এছাড়াও  WFP, SIDA, DANIDA,  KfW, Netherlands, Spain, USAID স্প্যানিশ ট্রাষ্ট ফান্ড সহ-অর্থায়নকারী সংস্থা। 


ইফাদের ঋণের শর্তাবলী:
ইফাদ বাংলাদেশকে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা  বা দেশের তুলনায় সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করছে। বাংলাদেশ ইফাদের কাছ থেকে বিশেষভাবে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পেয়ে থাকে, ০.৭৫% হারে  সার্ভিস চার্জসহ ১০ বছরের রেয়াতী মেয়াদসহ ৪০ বছরে এ ঋণ পরিশোধযোগ্য।

আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলে চাঁদা প্রদান  (Replenishment ):
বাংলাদেশ ১ম পরিপূরণে (Replenishment) ৫ লক্ষ মার্কিন ডলার, ২য় পরিপূরণে ৭.৫০ লক্ষ, ৩য় পরিপূরণে ৭.৫০ লক্ষ, ৪র্থ-৮ম পরিপূরণে ৬ লক্ষ মার্কিন ডলার এবং ৯ম পরিপূরণ ৬.৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার সর্বমোট এ যাবৎ ৬,১৫০, ০০০ মার্কিন ডলার চাঁদা প্রদান করেছে। প্রতিটি Replenishment ০৩ বছর মেয়াদী। মাননীয় অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে এ অর্থ প্রমিসরি নোট আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হয়। সেখান থেকে ইফাদের চাহিদা মোতাবেক ০৩ কিস্তিতে প্রতিটি Replenishment এর টাকা ইফাদের নির্দিষ্ট একাউন্টে  প্রেরণ করা হয়।

ঋণচুক্তির কার্য পদ্ধতি:
সাধারণত প্রকল্প গ্রহণ করার পূর্বে  অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অনুমতিক্রমে ইফাদ এর Inception Mission বাংলাদেশ সফর করে। মিশনের সদস্যগণ সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন, গৃহিতব্য কর্মসূচীসমূহের বাস্তবায়ন সম্ভাব্যতা, এলাকার উপকারভোগী জনগণ, বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে;  ইতিপূর্বে ইফাদ অর্থায়িত ও বাস্তবায়িত প্রকল্পের শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতাসমূহ বিবেচনা করে; এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে Wrap-up সভার মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে অতঃপর পর্যায়ক্রমে Formulation Mission, Appraisal Mission, Design Mission সম্পন্ন করার পর প্রকল্পটির, অর্থায়নের ধরণ, প্রকল্প এলাকা, উপাদানসমূহ, অর্থ ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পদ্ধতি ইত্যাদি বিষয়ে ইফাদ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও ইআরডি’র  মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা (Preliminary Discussion) মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে এর উপর ভিত্তি করে ইফাদ খসড়া Financing Agreement প্রেরণ করে।  সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে খসড়া Financing Agreement নুযায়অেএর আলোকেএর আলোকে ডিপিপি প্রস্তুত করে পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক অনুমোদনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। খসড়া ঋণচুক্তি পাওয়ার পর  অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমন্বয়ে  একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় খসড়া ঋণচুক্তির উপর বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নির্ধারণ করে  সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ঋণচুক্তিতে সংযোজন-বিয়োজন প্রস্তাব ইফাদকে অবহিত করা হয়।

ইফাদ খসড়া Financing Agreement এর উপর বাংলাদেশ সরকারের মতামত যতদূর সম্ভব সংশোধন করে পুনরায় Loan Negotiation এর জন্য Financing Agreement প্রেরণ করে।

বাংলাদেশ লোন নেগেশিয়েসন টিম গঠন:-
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইএমইডি, পরিকল্পনা কমিশন, সংশ্লিষ্ট সেক্টরের প্রতিনিধি, এনবিআর, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর প্রতিনিধি সমন্বয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে বাংলাদেশ লোন নেগেশিয়েশন টিম গঠন করা হয়।
লোন নেগেশিয়েশন এর জন্য ইফাদ ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনাক্রমে বাংলাদেশ বা ইতালিতে  লোন  নেগেশিয়েশন সম্পন্ন হয়ে থাকে।
লোন নেগেশিয়েসন হওয়ার পর খসড়া ঋণ চুক্তিটি আইনী মতামত ( ভেটিং ) গ্রহণের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়-এ প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে ইফাদ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য ইফাদের নির্বাহী বোর্ডে  প্রেরণ করে।

ঋণচুক্তি স্বাক্ষর অনুমোদন:
প্রকল্পটির ঋণচুক্তি স্বাক্ষরের জন্য একনেক (ECNEC) সভায় অনুমোদনের কার্যবিবরণী, আইনী মতামত (Vetting), Negotiation Text, Agreed Minutes of Negotiation ইত্যাদির অনুলিপিসহ চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর  বরাবরে সার-সংক্ষেপ প্রেরণ করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব/দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  ও ইফাদের পক্ষে ইফাদ প্রেসিডেন্ট কর্তৃক  দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে সময় ও স্থান নির্ধারণ করে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ইফাদের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা:-
International Fund for Agricultural Development (IFAD)
Via Paolo di Dono 44, 00142 Rome, Italy
Tel: +39 06 54591
Fax: +39 06 5043463
E-mail: ifad@ifad.org
Web:    www.ifad.org


বাংলাদেশের ঠিকানা:
Mr. Nicolas Syed
Country Programme Officer
(CPO), IFAD, Dhaka.
UNDP (19th Floor, Room No 1998)
IDB Bhaban, Agargaon, Dhaka
N.syed@ifad.org
01755-509510

 

সমন্বয়- অধিশাখাঃ
(১) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী কর্তৃক প্রদেয় ভাষণে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইআরডি’র তথ্য সংবলিত ব্রীফ প্রস্তুত;
(২)  মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ইআরডির তথ্য সংবলিত ব্রীফ প্রস্তুত;
(৩) একনেক সভার জন্য বিভিন্ন অনুবিভাগ/অধিশাখা থেকে বৈদেশিক সহায়তা সংবলিত প্রকল্পসমূহের তথ্যাদি সংগ্রহপূর্বক সিনিয়র সচিব মহোদয়ের জন্য ব্রীফ প্রস্তুত;
(৪)  সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভার জন্য বিভিন্ন অনুবিভাগ/অধিশাখা থেকে বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পসমূহের তথ্যাদি সংগ্রহ করে ব্রীফ প্রস্তুত;
(৫) ইআরডি’র কর্মকান্ডের মাসিক প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ;
(৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত বার্ষিক প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্তির জন্য ইআরডির কার্যাবলী সংবলিত প্রতিবেদন প্রেরণ;
(৭) প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় উপস্থাপিত সার্কুলার/নীতি/বিষয়ের উপর মতামত প্রদান;
(৮) ইআরডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কারিগরি সহায়তা (টিএ) প্রকল্পসমূহের মাসিক অগ্রগতি সংবলিত তথ্যাদি প্রেরণ;
(৯) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পসমূহের তথ্যাদি উপস্থাপন;
(১০) ইআরডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কারিগরি সহায়তা (টিএ) প্রকল্পসমূহের মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন আইএমইডিতে প্রেরণ; এবং
(১১) ইআরডি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কারিগরি সহায়তা (টিএ) প্রকল্পসমূহের মাসিক অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা আয়োজন।

সমন্বয়- অধিশাখাঃ
১। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংক্রান্ত কার্যাবলী । (বেপজা, বিনিয়োগ বোর্ড, এনজিও ব্যুরো ইত্যাদি)
২। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সংক্রান্ত কার্যাবলী।
৩। তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কার্যাবলী।
৪। এমডিজি ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত কার্যাবলী।
৫। সমন্বয় সভায় এ বিভাগের বিভিন্ন প্রতিবেদন (প্রকল্প পরিদর্শন, বিদেশ ভ্রমণ, সভা/সেমিনার এ অংশগ্রহণ উপস্থাপন) সংক্রান্ত কার্যাবলী।
৬। অনুবিভাগ প্রশাসন সম্পর্কিত কার্যাবলী।
৭। উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত নীতিমালা।

নরডিক অধিশাখা -  এই অধিশাখা নরডিক-১ ও ২ শাখার কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে। একজন উপসচিব এই অধিশাখার দায়িত্বে আছেন।

নরডিক অধিশাখার কার্যপদ্ধতিঃ
নরডিক অঞ্চলের কোন দেশ(নরওয়ে , ডেনমার্ক, সুইডেন, এবং ফিনল্যান্ড) এবং নরডিক ডেভলপমেন্ট ফার্ন্ড (NDF) অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কোন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করার জন্য যদি আগ্রহ প্রকাশ করে ; তখন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রাক্কলন নির্ধারন এবং ডিপিপি প্রস্ততকরণ নিশ্চিত করা হয়। সরকার ডিপিপি অনুমোদনের পর উভয় দেশের সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিতব্য চুক্তির খসড়া স্থানীয় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে প্রেরণ করা হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ খসড়া চুক্তি নামার উপর একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করে থাকে। আন্তঃমন্ত্রাণালয় সভার পরামর্শ মোতাবেক খসড়া চুক্তি নামার কোন সংশোধন বা পরিমার্জন করার প্রয়োজন হলে তা অন্তর্ভূক্তির জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে অনুরোধ করা হয়। দূতাবাস থেকে সংশোধিত খসড়া চুক্তিনামা পাওয়ার পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ কর্তৃক খসড়া চুক্তিনামা ভেটিং এর  জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হওয়ার পর চুক্তিনামাটি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে স্বাক্ষর করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী/মাননীয় অর্থমন্ত্রী বরাবর সার-সংক্ষেপের মাধ্যমে অনুমোদন চাওয়া হয়। অতঃপর উভয় সরকারের প্রতিনিধিগণ চুক্তিনামা স্বাক্ষর করেন এবং স্বাক্ষরিত চুক্তিনামা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়।
 

অধিশাখার আওতাধীন দুইটি শাখার কার্যাবলী তদারকীকরণঃ
১। নরডিক দেশসমূহের (i) নরওয়ে (ii) সুইডেন (iii) ডেনমার্ক (iv) ফিনল্যান((v) NDF (নরডিক ডেভলপমেন্ট ফান্ড) সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়াবলী প্রক্রিয়াকরণ;
২। (ক) দ্বিপাক্ষিক নিগোসিয়েশনের মাধ্যমে আর্থিক ও কারিগরী সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর উপর প্রজনীয় উদ্যেগ গ্রহন;   
   (খ) এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডেলিগেশনের জন্য কার্যপত্র প্রস্তত এবং তদারকিকরণ; (follow up action)
   (গ) স্বাক্ষরিতব্য চুক্তিনামা সমূহ প্রক্রিয়াকরণ ও চুড়ান্ত করণ;
   (ঘ) প্রকল্প ও কারিগরী  সহায়তা তহবিল সমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা;
()     খসড়া চুক্তিনামা পরীক্ষানীরিক্ষা করণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী/মাননীয় অর্থমন্ত্রীর নিকট থেকে অনুমোদন গ্রহণ;
()        নরডিক দেশসমূহ ও NDF এর নিকট থেকে প্রাপ্ত সহায়তার উপর রিপোর্ট/রিটার্ণ প্রস্ততকরণ;
()        বিভিন্ন সভার সিদ্ধান্ত সমূহ সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি তদারকিকরণ;
()       প্রি একনেক, ডিপিইসি, বার্ষিক পর্যালোচনা সভা এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সভায় যোগদান।
 

নরডিক- শাখাঃ
১। নরওয়ে ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহায়তা বিষয়াবলী প্রক্রিয়াকরণ;
২। একনেক, সিসিজিপি ও নন-কনসেশনাল ঋণ কমিটি ইত্যাদির জন্য ব্রিফ প্রস্ততকরণ;
৩। নরওয়ে এবং ডেনমার্কের নিকট থেকে প্রাপ্ত সাহায্যসমূহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং সংস্থার মধ্যে-বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করণ;
৪। নরওয়ে এবং ডেনমার্কের নিকট থেকে প্রাপ্ত অর্থনৈতিক সহায়তা সমূহের বাস্তবায়নের বিষয়ে সাময়িক ও বার্ষিক পর্যালোচনা সভার আয়োজন এবং তদারকিকরণ;
৫। উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি সমূহ স্বাক্ষরের জন্য প্রক্রিয়াকরণ এবং তদারকিকরণ;
৬। নরওয়ে ও ডেনমার্কের কারিগরী সহায়তাপুষ্ট কার্যক্রম সমূহের অধীনে প্রশিক্ষণ/বৃত্তিসমূহ প্রক্রিয়াকরণ;
৭। নোরাড (NORAD) এবং ডানিডা সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প সমূহের বৈদেশিক বিশেষজ্ঞ/ পরামর্শকদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও ভিসা প্রাপ্তির বিষয় প্রক্রিয়াকরণ;
৮। বৈদেশিক সাহায্য সংশ্লিষ্ট অনুদান/ঋণ/মিশ্রঋণ/সাপ্লাইয়ার্স ক্রেডিট সংক্রান্ত প্রস্তাব সমূহ যাছাই বাছাই ও প্রক্রিয়াকরণ;
 

নরডিক- শাখাঃ
১।  সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও NDF এর দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়াবলী এবং স্বাক্ষরিতব্য চুক্তিনামা সমূহ প্রক্রিয়াকরণ, তদারকিকরণ;
২।  সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড থেকে প্রাপ্ত অনুদান সমূহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং সংস্থায় বরাদ্দকরণসহ প্রয়োজনীয় কর্মসূচী প্রণয়ন;
৩।  সুইডেন ও ফিনল্যান্ড এবং NDF থেকে প্রাপ্ত অর্থনৈতিক সহায়তা সমূহের বাস্তবায়নের বিষয়ে সাময়িক ও বার্ষিক পর্যালোচনা সভার আয়োজন এবং তদারকিকরণ;
৪।  সুইডেন, ফিনল্যান্ড থেকে প্রাপ্ত কারিগরী সহায়তা পুষ্ট কার্যক্রমসমূহের অধীনে প্রকল্পভূক্ত প্রশিক্ষণ/বৃ্ত্তি/সেমিনার আয়োজন প্রক্রিয়াকরণ;
৫।   নরডিক অধিশাখার মাসিক কার্যক্রম বিষয়ে রিপোর্ট প্রণয়ন;
৬।  একনেক, সিসিজিপি ও নন-কননসেশনাল ঋণ কমিটি ইত্যাদির জন্য ব্রিফ প্রস্ততকরণ;
৭।  বৈদেশিক সাহায্য সংশ্লিষ্ট অনুদান/ঋণ/মিশ্রঋণ/সাল্পাইয়ার্স ক্রেডিট সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ বাছাই ও প্রক্রিয়াকরণ;
৮।  সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের সহায়তা প্রকল্পে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র ও ভিসা প্রাপ্তির বিষয় প্রক্রিয়াকরণ।
 

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন